OLD WOMEN
প্রথম পা ইস্কুলের নার্সারিতে।
নিয়মিত প্রতিবছর এক ক্লাস উঁচুতে,
ভাবনা র স্তর ও।
দেখতে দেখতে ১৩-১৪ টা বছর পেরিয়ে ইস্কুল এর গণ্ডি পেরোলেও পড়াশোনা র মায়া কাটেনা।
পয়সা র মায়া বাড়তে থাকে।
চাকরি পেলে বিয়ে টা সারতে ই হয়, নিজের ইচ্ছায় না হলে ও বাবা মায়ের কথা রাখতে।
কিন্তু মধ্যবিত্ত আমরা সংখ্যা এ সবচেয়ে বেশী আমরা বড়লোক হতে গিয়ে চাকরি র নেশা এ ভুলে ই যায় যে যাকে বিয়ে করে বাড়িতে এনেছে তার প্রতি কর্তব্যবোধ, ওই লৌকিকতা র খাতিরে যে টুকু তাতে ই ছেলে মেয়ে বড়ো হয়ে যায়।
যেই বাবা মা র সাথে জীবন কাটানো যাদের সপ্ন পূরণের জন্য তার কিছুতে আজ কমতি নেই তারাও একদিন ছেড়ে চলে যান না ফেরার দেশে।
তারপর আরও টাকা দরকার সন্তান এর প্রতি কর্তব্যবোধ এর জন্য, কিন্তু টাকা আর কর্তব্যবোধ এর বাইরে যে সম্পর্ক টা চায় ছেলে মেয়ে রা সেটা অনেক সময় ই বাবা মা কেউই দিতে সক্ষম হন না।
দেখতে দেখতে আবার সেই cycle এ ফিরে যাওয়া এবার পরের বংশ র।
আস্তে আস্তে তাদের বিয়ে,
তখন গিয়ে সেই বৃদ্ধ বোঝে তার একাকিত্ব টা। সারাজীবন যেই চাকরি যেই টাকা র পিছনে তিনি ছুটেছেন টা কিছুই নেই তার বার্ধক্য দেখার জন্য, বোঝার জন্য। সন্তান রাও যার যার কাজ বা সংসার এ ব্যাস্ত, বৃদ্ধ পিছনে ফিরে কিছুই দেখতে পান না যার জন্য জীবনের সাথে এত লড়াই। এই শেষ জিবনে তিনি বুঝছেন এতদিন যুদ্ধ করার ক্ষমতা ছিল কিন্তু এখন নেই, এখন যুদ্ধ টা নিজের সঙ্গে।
মনে পড়ছে একটা ই আস্থানা, অর্ধাঙ্গিনী।
তাকে কিছুই দিতে পারেনি বলে দ্বিধা বোধ করছেন। বড়ো ফাঁকা বাড়িটা তে তিনি একা নন। একটু শান্তি হলো। কোথাও একটা খুব যন্ত্রণা বোধ করেন, সকালে তার হাতে চা না খেলে ঠিক ভালো লাগে না।
ভাবলেন কাল চা খেতে একটু গল্প করবে তার সাথে।
পরদিন প্রতিদিনের মত ভর ৬ টা এ চা নিয়ে এলেন তার স্ত্রী, চা এর এ অপেক্ষা করছেন বৃদ্ধ, চা এর কাপ টা টেবিল এ রেখে আতকে উঠলেন, বৃদ্ধার চোঁখের কোনায় এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ছে, হাত টা বুকে, চোখ টা ঠিকরে বেরিয়ে পড়েছে, তার নিশ্বাস টা আর পরবেনা এই বাড়িতে।
#দুজনেরই।
PRITHA SARKAR
#picture courtesy- internet

Comments
Post a Comment