দুই চাকা
![]() |
| সৌজন্যে ইন্টারনেট |
বর্তমানে গোটা বিশ্ব অনবরত লড়ছে এক অচেনা অদেখা ভাইরাসের সঙ্গে। পৃথিবীজুড়ে দিন দিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ। চিকিৎসকরা বলছেন মানুষ থেকে মানুষে অতি দ্রুত এই রোগ ছড়ায় এবং সংক্রামিত হয় ব্যাপক হারে। এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার ওষুধ তৈরীতে ব্যাস্ত প্রায় সব দেশ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন রোগের হাত থেকে বাঁচতে হলে মানতে হবে সোশ্যাল ডিস্টেনসিং(socail distancing)। প্রতিটি দেশ এই ভাইরাস প্রতিরোধে দেশব্যাপী লক্ ডাউন পালন করেছে। কিন্তু দেশগুলির আর্থনীতি বাঁচাতে মানুষকে ফিরতে হবে তার কাজে।
এই অবস্থায় বিশ্বব্যপী মানুষ যতটা সম্ভব গনপরিবহন এড়িয়ে চলতে চাইছেন। আর এই অবস্থায় ত্রাতা হয়ে উঠেছে
দুচাকার যান- সাইকেল।
দুটো মাত্র সরু চাকার ওপর দুর্দান্ত ব্যালেন্স করে সীটের ওপর উঠে বসে দু পায়ে প্যাডেলের ওপর চাপ দিলেই ব্যাস। চাকা গরায়।
যতদূর ইচ্ছে চড়ে যাওয়া যায় সহজেই। গন সড়ক পরিবহনে বাস টেক্সি অটো কিংবা মানুষের নিজস্ব গাড়ি বা মোটর সাইকেল, এসবের উৎপাতে পরিবেশের প্রান যখন ওষ্ঠাগত, তখন দু চাকার দূষণহীন হালকা অল্প জায়গার এই যান যেন আশীর্বাদ। একজন বা দুজন অনায়াসে গন্তব্যে পৌঁছতে পারে।
আজব এই যান উনবিংশ শতক থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রচলিত হতে শুরু করে। বিশ্বের প্রথম সাইকেল কোনো এক জার্মান ভদ্রলোক Baron Karl von Drais ছিল বলে জানা যায় ১৮১৭ সালে এই জার্মান সিভিল সার্ভেন্ট, যার নাম দেওয়া হয় Laufmaschine (German for "running machine")। সাংবাদিকরা এই যানটির নাম দেয় Draisine (English) বা draisienne (French)। পরে এই সাইকেলে রেস একটি জনপ্রিয় স্পোর্টস হিসাবে পরিচিতি পায়। অন্যান্য দেশের মত ভারতেও সাইকেল রেস ১৯৩৮ থেকে স্পোর্টসের পরিচয় পায়। আমরা সাইকেলের এখন যে রূপ দেখি তা ১৮৮৬ সালে তৈরী বলে মনে করা হয় এবং এভাবেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কিংবা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাইকেল যানের ব্যাবহার বাড়তে থাকে। প্রত্যেক বাঙালি সাইকেলে না চড়লেও প্রত্যেক বাঙালি বাড়িতে একটি কিংবা অধিক সংখায় পাওয়া যাবে। COVID পূর্ববর্তী সময়ে শহরাঞ্চলে সাইকেলের ব্যাবহার কম ছিল অনেকটাই। তবুও মফঃসল বা গ্রামে এখনো সাইকেলের চাহিদা ব্যাপক। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সাইকেলের ব্যাবহার বিশ্বজুড়ে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিক্রি। মন্দার সময়ে সহজলভ্য কম খরচের এই যান বেশ সাশ্রয়ী। লকডাউন পরিস্থিতিতে বহু মানুষ কোনো পরিবহনের সুবিধা না পেয়ে সাইকেলে বহু দূর পথে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে কাজের জায়গায় পৌঁছতে অনেকে বেছেছেন এই সাইকেল। সময় একটু বেশি লাগে বটে তবে বর্তমানে স্বাস্থ সচেতন মানুষের বিশ্বাসী বন্ধু হয়ে উঠেছে এই দু চাকার যান।।
তৃণা চোধুরী
কিছু তথ্যসংগ্রহ- ইন্টারনেট

Comments
Post a Comment