ইস্কুল-বাড়ি

🏫 জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তর। আমরা কেউ গার্লস বা বয়েজ অথবা co-ed স্কুল এ পড়েছি বা পড়ছি, তা এই স্কুল জীবন টা আমাদের কাছে একটা অদ্ভুত আবেগ। স্কুলের সমস্ত বন্ধুদের সাথে হয়ত যোগাযোগ থাকেনা, স্কুল শেষের পর সবাই নিজের জীবনে ব্যাস্ত, কেউ দিল্লী, কেউ Bangalore, কেউ বা কলকাতা তেই। শার্ট সাইন করে  একসাথে ১২ পাশ করার পর কেউ ডাক্তারি কেউ উকিল কেউ বা ড্রইং। জীবনের ব্যস্ততা তে আমরা সবার সাথে প্রতিদিন কথা না বললেও কোথাও না কোথাও তাদের কথা মনে পড়ে, টিফিন এর আগে ই আমাদের টিফিন হয়ে যেত। দ্বিতীয় ক্লাসের টিচার এসে র চক খুঁজে পেতোনা যেগুলো দেওয়ালে, বেঞ্চে নাম লেখার কাজে ব্যাবহার হয়ে যেত, টিচার এর অনুপস্থিথিতি তে হাই বেঞ্চ এ বসে আড্ডা, গানের লড়াই, বাড়ি ফেরার সময় স্কুলের গেট এর ফুচকা, ছোট হলেও এইসব স্মৃতি গুলো হৃদয় এর অনেক কাছের। এত ভালো বন্ধুত্বের স্বাদ হয়ত এর পরে পাওয়া যায়না।

Teen-age টাও আমরা স্কুলেই কাটাই, চিন্তাধারা, মানসিকতা গড়ে ওঠার পেছনে বাবা- মা র সাথে সাথে স্কুলের  অনেকটাই  অবদান আছে। সাধারণ বৈশিষ্ট্য হিসাবে অন্য লিঙ্গের প্রতি একটা আকর্ষণ তৈরি হয়, জ্ঞান হওয়া থেকে যাদের চিনি তাদের বাইরে প্রথম কাউকে আমরা ভরসা করি বা বিশ্বাস জন্মায়- এই জন্য ই হয়ত প্রথম প্রেম কখন ও ভোলা যায়না। পারিবারিক বন্ধন ছাড়া আর এক বন্ধন সম্পর্কে প্রথম জানা সেই স্কুল লাইফ এই।
শিক্ষক শিক্ষিকা দের সাথেও একটা খুব স্নেহের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যতই তারা বকা দিক, মারধর করুক, কিন্তু পরের মুহূর্তে আবার কাছে টেনে নেন। তারা আমাদের নিজেদের সন্তান ভেবে ই আচরণ করেন। দীর্ঘ ১২-১৪ বছর আমরা স্কুলের সাথে জড়িত থাকি, অনেক বন্ধুত্ব ভেঙে যায় কিন্তু কোথাও একটা দাগ কেটে যায় প্রতিটা চেনা মুখ। অনেক দিন পর দেখা হলেও তাদের সাথে সম্পর্ক টা সেই একই রকম মজবুত থেকে যায়।
পৃথা সরকার

Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

RED BATER (QUAIL)