এক কাপ চায়ে...



সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা পোস্ট মাঝেমধ্যেই দেখা যায় ,"বাঙালির মাথার যন্ত্রণায় ওষুধ নয় চা লাগে," সকাল বেলা অ্যালার্ম শুনে ঘুম থেকে উঠে অফিস বা কলেজ যাবার তারাই থাক, কিংবা ছুটির দিনের আলসেমি, যাই হোক, বাঙালি চা ছাড়া চলতে অক্ষম। আবার বিকেলে ছোটোখাটো ভাতঘুম দিয়ে উঠে বা সিরিয়াল দেখতে বসে হাতে চায়ের কাপ ছাড়া কি চলে? সকাল বা বিকেলের কথা হলেও এই সুস্বাদু গরম পানীয় টি খাওয়ার বাঙালির নির্দিষ্ট কোনো সময় বাঁধা থাকে না। কলেজের অফ ক্লাসে বা বস্ এর চিৎকার শোনার পর চা নতুন আমেজ আনে। তবে দুধ চা বা লিকার চায়ের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ তাই নিয়ে অনেক তর্ক চলে আবার স্বাস্থ সচেতন মানুষ আরও অনেক ধরনের চা নিয়ে বিশ্লেষন করেন। তবে ভারত তথা গোটা দুনিয়ায় চায়ের আদর কম তা কিন্তু না।
বিজ্ঞানসম্মত নাম- ক্যামেলিয়া সিনসেসিস।
ইতিহাস- স্বাদে গন্ধে অতুলনীয় এই গরম পানীয় এক ধরনের পাতা থেকে বানানো হয়। চীনে প্রথম

এর অভ্যেস শুরু হয় সম্ভবত খ্রী: পূ:
১০ ম শতাব্দী তে। গ্রীক দেবী থিয়া র নাম অনুসারে চায়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল টি, চীনে এটির উচ্চারণ ছিল চি সেখান থেকে আসে চা। ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে চীনে বাণিজ্যিকভাবে চায়ের উৎপাদন শুরু হয়। আর ভারতবর্ষে এর চাষ শুরু হয় ১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দে। ১৮৫৫ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশরা সিলেটে সর্বপ্রথম চায়ের গাছ খুঁজে পায়। এরপর ১৮৫৭ সালে সিলেটের মালনীছড়ায় শুরু হয় বাণিজ্যিক চা-চাষ।
নিয়ম- চা প্রধান কান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলের ফসল হলেও উপ-ক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চলেও এটি কিছু কিছু চাষ করা যায়। প্রথম অবস্থায় পাহারের ঢালু জমি পরিষ্কার করা হয়। এর চারা পৃথক বীজতলায় তৈরী করা হয়।চারাগুলো যখন ২০ সেন্টিমিটার দীর্ঘ হয়, তখন সেগুলোকে চা-বাগানে সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা হয়। সাধারণতঃ দেড় মিটার পরপর চারাগুলোকে রোপণ করা হয়ে থাকে। এরপর গাছগুলোকে বৃদ্ধির জন্য যথামাত্রায় সার প্রয়োগ ও জল সেচের ব্যবস্থা করতে হয়। এভাবে দুই থেকে তিন বছর পরিচর্যার পর পাতা সংগ্রহের উপযোগী করে তোলা হয়। কিন্তু গাছগুলো পাঁচ বছর না হওয়া পর্যন্ত যথাযথভাবে পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারে না। একটি চা গাছ গড়পড়তা ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত উৎপাদনের উপযোগী থাকে। তারপর পুনরায় নতুন গাছ রোপণ করতে হয়। প্রয়োজনীয় মাটি ও জল সহযোখে উৎপন্ন চা পাতা অর্থাৎ একটি কুঁড়ি দুটো পাতা খুব সহজে তুলতে হয় বলে এই কাজ সাধারণত মহিলারা করেন। তারপর নানা পদ্ধতিতে পাতাকে শুকিয়ে নিয়ে তাকে কখনো টুকরো করে কখনো সম্পূর্ণ গুঁড়ো করে প্যাকেটযাত করে বিক্রির জন্য তৈরি হয়। আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং চা জগংশ্রেষ্ঠ বললে অত্যুক্তি হবে না।
এছাড়া উত্তরের স্থানগুলি ভারতের মধ্যে আসাম নিলগিরি ও ভারত ছাড়া শ্রীলঙ্কার চা ও বিখ্যাত।
ক্যাফিন মিশ্রিত এই চা শরীরের দুর্বলতা ক্লান্তি রোধ করে যদিও অতিরিক্ত এই পানীয় গ্রহন নিরাপদ নয়।

তাই মাত্রা বজায় রেখে চায়ের আমেজ চিরদিন অপরিবর্তিত থাক।।
কিছু তথ্যসংগ্রহ- ইন্টারনেট
তৃণা চৌধুরী

Comments

Popular posts from this blog

RED BATER (QUAIL)